বাংলা টিপস

রাগ কমানোর সহজ উপায়

রাগ কমানোর সহজ উপায়, রাগ মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। তবে অতিরিক্ত রাগ মানুষকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়। কেননা অতিরিক্ত রাগ মানুষের মনুষ্যত্ব নষ্ট করে, মানুষের বিবেক-বুদ্ধি ধ্বংস করে দেয়। অতিরিক্ত রাগের সময় মানুষের ভালো- মন্দ জ্ঞান থাকেনা। সে যে কোন অন্যায় কাজ করে ফেলতে পারে । তাই অতিরিক্ত রাগ বর্জন করা উচিত। তবে আমরা যখন রেগে যাই, তখন আমাদের হিতাহিত জ্ঞান থাকেনা। আমরা রাগ কমানোর বদলে উল্টে আরো বাড়িয়ে ফেলি। 

কিন্তু এটা করা ঠিক নয় । আমাদের উচিত মাথা ঠান্ডা রেখে রাগকে  নিয়ন্ত্রণে রাখা । রাগ মানুষের হতেই পারে, তবে অতিরিক্ত রাগ ভালো নয়।তাই বন্ধুরা, আজকে আমাদের এই পোস্টে আপনাদের রাগ কমানোর কিছু সহজ উপায় তুলে ধরা হলো।  যেগুলোর মাধ্যমে আপনি আপনার রাগকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারেন। এতে আপনার জীবন অনেক সহজ হয়ে যাবে। জীবনের ভুলগুলো শুধরে নিতে পারবেন এবং  কোন অন্যায় করা থেকে বিরত থাকতে পারবেন।

আরো জানুন

কিভাবে অনলাইনে জমির খতিয়ান/ ই পর্চা পাবেন? 2022

রাগ কমানোর সহজ উপায়

রাগ কমাতে আপনি রাগের সময় মাটির দিকে তাকিয়ে থাকুন ।এতে মাটির শান্ত স্বভাবের মত আপনার রাগও শান্ত হয়ে যাবে ।

মনকে যতটা সম্ভব শান্ত রাখার চেষ্টা করুন, এক থেকে দশ পর্যন্ত উল্টো করে গুনতে পারেন, তাহলে মস্তিষ্ককে কিছুটা অন্যদিকে ব্যস্ত রাখা যাবে। এটা রাগ কমাতে সাহায্যে করে।

হঠাৎ করে রাগের মাথায় কোনো কথা বা কাজ করে বসবেন না, সময় নিন, প্রয়োজন হলে সেই মানুষটার সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বন্ধ রাখুন অথবা রাগের কারণটি থেকে নিজের মনকে অন্যদিকে সরিয়ে নিন।

আপনি যখন শান্ত হয়ে যাবেন, আপনার রাগের কারণগুলো তার সামনে তুলে ধরুন, ততক্ষণে অপরজনের মাথাও ঠান্ডা হয়ে যাবে, তিনিও ভালোভাবে আপনার কথা বুঝতে পারবেন।

নিয়মিত এক্সারসাইজ করতে পারেন। এতেও রাগের প্রবণতা কমে। ক্ষণিকের রাগ কমাতে কিছুটা পথ হাঁটতে পারেন।

আপনি যখন রেগে আছেন স্বাভাবিকভাবেই আপনার মধ্যে নমনীয়তা কাজ করবে না, আর তাই হঠাৎ করে এমন কিছু কথা বলে ফেলতে পারেন যা অন্যের কষ্টের কারণ হতে পারে, তাই রেগে থাকার সময়ে কোনো কথা না বলাই ভালো।

যে কোনো সমস্যারই সমাধান আছে। একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করলেই সেটা বের করা যায়। সেটাই চেষ্টা করুন।

নিজেকে নিয়ে বেশি হিসাব করতে গেলে রাগ আরো বাড়বে, তাই তাৎক্ষণিক ব্যাপারটা মেনে নিলে সমস্যা অনেকটা কমে যায়।

রাগ কমাতে অনেকে ধূমপান করেন। অন্য নেশাও করেন। কিন্তু  রাগ কামনোর ভালো পথ নয়। তাতে মনটা আরো বিক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

আরো জানুন

রোজা কি-রোজার নিয়ত বাংলা অর্থ সহ

রাগ কমানোর সহজ উপায়

তাৎক্ষণিক কিছু কাজ আমরা করতে পারি, যেমন যে জায়গাটিতে রেগে যাওয়ার মতো কিছু ঘটেছে সেখান থেকে সরে যাওয়া। যার ওপরে রাগ হয়েছে – তার কাছ থেকে সরে যাওয়া। তার সাথে তখনই নয়, বরং খানিক পরে কথা বলা। হাতের কাছে যদি বরফ থাকে তাহলে তা হাত দিয়ে ধরে থাকা। বরফ মেজাজ শীতল করতেও সহায়তা করে।

“যদি সম্ভব হয় যে কাপড়ে আছেন তাতেই গোসল করে ফেলুন। নিশ্বাসের একটি ব্যায়াম করে দেখতে পারেন। সেটি করার পদ্ধতি হল, রাগ থেকে মনটাকে সরিয়ে নিশ্বাসের দিকে মনোযোগ দেয়া। বুক ভরে গভীর নিশ্বাস নেয়া, সেটাকে কিছুক্ষণ ধরে থাকা, কিছুক্ষণ পর বাতাস ছেড়ে দেয়া। সেটি রাগ কমাতে সাহায্য করে।”

আপনাকে নিজের সঙ্গে নিজের বোঝাপড়া করে বুঝতে হবে আপনার রাগের ধরন কেমন, অর্থাৎ আপনি যখন রেগে যান তার রূপ কতোটা ভয়াবহ হতে পারে। গবেষকদের মত হলো, কেউ যদি তার রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় প্রথমেই তাকে অনুধাবন করতে হবে তার মাত্রা কতোটা ভয়াবহ হয়।

আপনার শরীর সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। কেননা আপনি সম্পূর্ণরূপে সুস্থ কিনা। বলা হচ্ছে, শারীরিকভাবে অসুস্থ হলে ক্রোধ দমন করা কঠিন হয়। একইসঙ্গে অবসরের বিষয়টিও ভাবতে হবে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে নিয়ম করে যদি যথার্থ অবসর না মেলে, তবে রাগ কমানো কঠিন। গবেষকদের পরামর্শ হলো, অবসর যাপন এবং তা উপভোগ, সুস্থ বিনোদন ক্রোধ কমানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি।

আপনাকে সুস্থ মাথায় রাগের গতিবিধি ও সঠিক নিদের্শনা মোতাবেক জীবন যাপনে অভ্যস্ত হতে হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত রাগের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিয়ে সেই অনুযায়ী চলা উচিত। তবে গবেষকদের মত হলো, রাগ কমানোর জন্যে প্রধানতম বিষয়টি হলো, নিজের ইচ্ছা শক্তি। আপনি ইচ্ছা করুন নিয়ন্ত্রণ করার এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিন, আর প্রতিটি মুহূর্তে স্মরণ রাখতে চেষ্টা করুন। এই প্রক্রিয়ায় আপনার রাগ কমে আসবে।

যখন আপনি সাফ ভাবতে পারছেন, তখনই রাগ প্রকাশ করুন। বিরক্তি প্রকাশ করুন, কিন্তু যুদ্ধের মেজাজে নয়।যত রাগই হোক, অন্যকে অপমান করা কাজের কথা নয়।

টাইমআউট শুধু ছোটদের জন্য নয়। দিনের যে সময়টা ভয়ানক স্ট্রেসের সে সময় নিজেকে কিছুটা ব্রেক দিন। নিজের জন্য শান্ত কিছু সময় বিরক্তিকর অনেক কিছু থেকে মুক্তি দেয়। রাগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

অন্যের নিন্দা বা সমালোচনা না করে নিজের পছ্ন্দ-অপছন্দ পরিস্কার করে জানান। নির্দিষ্ট করে আপনার চাহিদাটা জানান। ‘তুমি বাড়ির কোন কাজই করো না’-র বদলে বলুন ‘আমাকে সাহায্য না করে বারবার তোমার খেয়ে দেয়েই উঠে যাওয়া আমাকে কষ্ট দেয়।’’

ক্ষমা করতে শিখুন। মনের মধ্যে রাগ পুষে রেখে সবসময় খারাপ কথাই ভাবলে আখেরে ক্ষতি আপনারই। নিজের এই এক পেশে চিন্তায় ডুবে থাকলে ভাল কিছু ভাবার ক্ষমতাটাই না চলে যায়। ক্ষমা করতে শিখুন। নিজের ব্যবহার নিয়েও খুঁটিয়ে ভাবুন। সবাই সব সময় আপনার মতই ভাববে এতটাও আশা করা বোধহয় ঠিক নয়।

যদি আপনার চড়া মেজাজে লাগাম পবাতে অসুবিধা হয়, তাহলে জোরে জোরে গভীর নিঃশ্বাস ফেলুন। মজার কোনও দৃশ্য ভাবুন। গান শুনুন, বই পড়ুন, আপনার আদতে যা যা করতে ভাল লাগে সে দিকে বেশি করে মন দিন।

 প্রিয় পাঠক, রাগ কমানোর সহজ উপায় গুলো আপনাদের কেমন লাগলো? এগুলো আপনারা আপনাদের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করবেন, দেখবেন কতটা কাজে দিচ্ছে। যদি উপায় গুলো আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে আমাদেরকে কমেন্টে জানাবেন । পরবর্তীতে আমরা আপনাদের জন্য আরো ভালো কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব।

আরো জানুন

২৬ শে মার্চ এর কবিতা, ইতিহাস, স্বাধীনতার ঘোষণা, ছবি, ব্যানার

Leave a Reply

Your email address will not be published.