২৬ শে মার্চ এর কবিতা, ইতিহাস, স্বাধীনতার ঘোষণা, ছবি, ব্যানার

হ্যালো বন্ধুরা, আপনাদের সবাইকে ২৬ মার্চ তথা স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা রইল। আপনারা অনেকেই হয়তো স্বাধীনতা দিবস তথা ২৬ শে  মার্চের ইতিহাস সম্পর্কে জানেন না, বা ২৬ শে মার্চে স্বাধীনতার ঘোষণা কে দিয়েছিলেন আপনারা সে সম্পর্কে জানেন না। তাই আজ আপনাদের জন্য আমরা ২৬ শে মার্চের ইতিহাস, স্বাধীনতার ঘোষণাকারী এবং স্বাধীনতা দিবসের ছবি, ব্যানার, ফেসবুক স্ট্যাটাস ইত্যাদি সংগ্রহ করেছি। আপনি এই পোস্ট থেকে স্বাধীনতা দিবসের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং স্বাধীনতা দিবসের ব্যানার ডাউনলোড করতে পারবেন। স্বাধীনতা দিবসের ছবি ডাউনলোড করতে পারবেন।

২৬ শে মার্চ অর্থাৎ স্বাধীনতা দিবস বাঙ্গালীদের জীবনে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বাঙালিরা তাদের জীবন দিয়ে, মা-বোনদের ইজ্জত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছেন। স্বাধীনতা এমনি এমনি আসেনি, দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। এই স্বাধীনতার পেছনে রয়েছে এক করুণ ইতিহাস। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পর থেকে পশ্চিম পাকিস্তানের লোকজন পূর্ব পাকিস্তানের লোকদের উপর নানাভাবে অন্যায় অত্যাচার করত। তারা পূর্ব পাকিস্তানের লোকদের সবদিক থেকেই দমিয়ে রাখতে। শিক্ষা হোক, ব্যবসা হোক, রাজনীতি হোক কোনো ক্ষেত্রেই পূর্ব পাকিস্তানের লোকদের প্রাধান্য দেওয়া হতো না।
পর্যায়ক্রমে ১৯৫২ সালে বাঙ্গালীদের মাতৃভাষার উপর আঘাত করা হয়। বাংলার পরিবর্তে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবী জানায় তারা। কিন্তু বাংলার লোকজন এটি মেনে নেয়নি। তারা এর প্রতিবাদ করে এবং ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এবং জীবন দান এর মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন একটি ভাষা ,সেটি হচ্ছে বাংলা ভাষা। এরপর ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সত্তরের নির্বাচন প্রভৃতি ক্ষেত্রেও বাঙ্গালীদের জয় হয়েছে। কিন্তু বাঙ্গালীদের এ জয় তারা মেনে নিতে পারেনি। তাই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঘুমন্ত বাঙালির উপর অতর্কিত হামলা শুরু করে। তারা ঘুমন্ত বাঙালিকে ধরে ধরে গুলি করে, তাদের বাড়িঘরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়, মা-বোনদের ঘর থেকে ধরে নিয়ে যায়, ধন সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়। সেদিন রাতে আমাদের প্রিয় নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেন তারা। এবং তাকে করাচির জেলে রাখা হয়। ২৫ শে মার্চ এই কাল রাতের কথা বাঙালি কোনদিন ভুলতে পারবে না।
২৫ শে মার্চ কালো রাতে বাঙ্গালীদের উপরে জুলুম, অত্যাচার দেখে ২৬ শে মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তার এ ঘোষণা সারা বাংলায় একযোগে প্রচার করা হয়। তার মুখে স্বাধীনতার এই ঘোষণা শুনে সারা বাঙ্গালী জাতি মুক্তিযুদ্ধে যাবার জন্য অনুপ্রাণিত হয়। তারা নিজেদের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার জন্য উঠেপড়ে লেগে যায়। নিজের রক্ত দিয়ে, মা-বোনদের ইজ্জত দিয়ে হলেও তারা স্বাধীনতা অর্জন করেছে। ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি এই স্বাধীনতা। ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ইতিহাস বাঙালি জাতির জীবনে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

২৬ শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা

যদিও শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন স্বাধীনতার পৃষ্ঠপোষক। তিনি স্বাধীনতার স্বপক্ষে নিজের জীবন উজাড় করে দিয়েছিলেন । বাঙালিকে জাগ্রত করার জন্য তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র । কিন্তু ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীরা তাকে ধরে নিয়ে যায়। তাকে করাচির জেলে রাখা হয়। তাই তার অবর্তমানে ২৬ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান বাঙালি দের জাগ্রত করার জন্য স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন।

জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। তারা ঘোষণা সারা বাংলায় একযোগে সম্প্রচার করা হয়। স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ হন । তারা যুদ্ধ করতে ঘর ছেড়ে বের হয়ে যায়।

২৬ শে মার্চ কি দিবস

২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস

২৬ শে মার্চ এর ছবি

বন্ধুরা, আপনারা যারা ২৬ মার্চ এর ছবি ডাউনলোড করার জন্য খুঁজছেন, তারা নিজে দেখতে থাকুন। আপনাদের জন্য ২৬ মার্চের কিছু সুন্দর সুন্দর ছবি দেওয়া হয়েছে । যেগুলো ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস আমাদের অন্তরে নাড়া দিয়ে যাবে। এরকম কিছু ছবি আপনাদের জন্য দেওয়া হলো। আপনারা এই ছবিগুলো আপনাদের ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে লাইক কমেন্ট পেতে পারেন ।

২৬ মার্চ 2022 

 

২৬ মার্চ

২৬ শে মার্চ এর ব্যানার

হ্যালো পাঠক, আপনি হয়তো ২৬ মার্চের কিছু ব্যানার খুঁজছেন। যেগুলো আপনার এই মুহূর্তে প্রয়োজন । কিন্তু কোথাও পাচ্ছেন না । আপনি ঠিক সাইটে প্রবেশ করেছেন। এই সাইটে আপনাদের জন্য ২৬ শে মার্চ এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যানার ডিজাইন করে দেওয়া হয়েছে। যেগুলো আপনি ডাউনলোড করতে পারেন। আমার ডিজাইন করা এই ব্যানারগুলো আপনি ২৬ শে মার্চ তথা স্বাধীনতা দিবসে আপনার প্রয়োজনীয় কাজে লাগাতে পারেন।

২৬ মার্চ ব্যানার

২৬ মার্চ ব্যানার

 

২৬ শে মার্চ এর কবিতা

একটি পতাকা পেলে

হেলাল হাফিজ

কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে

আমি আর লিখবো না বেদনার অঙ্কুরিত কষ্টের কবিতা

কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে

ভজন গায়িকা সেই সন্ন্যাসিনী সবিতা মিস্ট্রেস

ব্যর্থ চল্লিশে বসে বলবেন,–’পেয়েছি, পেয়েছি’।

কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে

পাতা কুড়োনির মেয়ে শীতের সকালে

ওম নেবে জাতীয় সংগীত শুনে পাতার মর্মরে।

কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে

ভূমিহীন মনুমিয়া গাইবে তৃপ্তির গান জ্যৈষ্ঠে-বোশেখে,

বাঁচবে যুদ্ধের শিশু সসন্মানে সাদা দুতে-ভাতে।

কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে

আমাদের সব দুঃখ জমা দেবো যৌথ-খামারে,

সম্মিলিত বৈজ্ঞানিক চাষাবাদে সমান সুখের ভাগ

সকলেই নিয়ে যাবো নিজের সংসারে।

 

স্বাধীনতা তুমি

 শামসুর রাহমান

স্বাধীনতা তুমি

রবিঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান।

স্বাধীনতা তুমি

কাজী নজরুল ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো

মহান পুরুষ, সৃষ্টিসুখের উল্লাসে কাঁপা-

স্বাধীনতা তুমি

শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা

স্বাধীনতা তুমি

পতাকা-শোভিত শ্লোগান-মুখর ঝাঁঝালো মিছিল।

স্বাধীনতা তুমি

ফসলের মাঠে কৃষকের হাসি।

স্বাধীনতা তুমি

রোদেলা দুপুরে মধ্যপুকুরে গ্রাম্য মেয়ের অবাধ সাঁতার।

স্বাধীনতা তুমি

মজুর যুবার রোদে ঝলসিত দক্ষ বাহুর গ্রন্থিল পেশী।

স্বাধীনতা তুমি

অন্ধকারের খাঁ খাঁ সীমান্তে মুক্তিসেনার চোখের ঝিলিক।

স্বাধীনতা তুমি

বটের ছায়ায় তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীর

শানিত কথার ঝলসানি-লাগা সতেজ ভাষণ।

স্বাধীনতা তুমি

চা-খানায় আর মাঠে-ময়দানে ঝোড়ো সংলাপ।

স্বাধীনতা তুমি

কালবোশেখীর দিগন্তজোড়া মত্ত ঝাপটা।

স্বাধীনতা তুমি

শ্রাবণে অকূল মেঘনার বুক

স্বাধীনতা তুমি পিতার কোমল জায়নামাজের উদার জমিন।

স্বাধীনতা তুমি

উঠানে ছড়ানো মায়ের শুভ্র শাড়ির কাঁপন।

স্বাধীনতা তুমি

বোনের হাতের নম্র পাতায় মেহেদীর রঙ।

স্বাধীনতা তুমি বন্ধুর হাতে তারার মতন জ্বলজ্বলে এক রাঙা পোস্টার।

স্বাধীনতা তুমি

গৃহিণীর ঘন খোলা কালো চুল,

হাওয়ায় হাওয়ায় বুনো উদ্দাম।

স্বাধীনতা তুমি

খোকার গায়ের রঙিন কোর্তা,

খুকীর অমন তুলতুলে গালে

রৌদ্রের খেলা।

স্বাধীনতা তুমি

বাগানের ঘর, কোকিলের গান,

বয়েসী বটের ঝিলিমিলি পাতা,

যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা।

 

 

Leave a Comment